আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে তখনই বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়ন ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশকে সেটা মাথায় রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি দমনে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবা অব্যাহত রাখার এবং এজন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ছয় দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্মার্ট পুলিশ গড়তে সবকিছু করছে সরকার: স্মার্ট পুলিশ গড়তে সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী আধুনিক, দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছে। পুলিশ যেন আরও স্মার্ট বাহিনী হয় সেজন্য সরকার সবকিছু করছে। মানুষের সেবার জন্য পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতা দিয়ে মানুষের সেবা করার মতো করে পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুলিশ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। করোনায় যখন আত্মীয়-স্বজন পাশে ছিল না, পুলিশ ছিল মানুষের পাশে। মৃত লাশ দাফন কাফনের ব্যবস্থাও করেছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে পুলিশ: পুলিশ বারবারই অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জীবনের বিনিময়ে জনসাধারণকে রক্ষা করেছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। গত ২৮ অক্টোবর রাজারবাগে ঢুকে বিএনপি-জামায়াত যে ধ্বংসাত্মক কাজ চালিয়েছিল তখন পুলিশ ধৈর্য দেখিয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েও আমাদের পুলিশ বাহিনী বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। অনেকে জীবনও দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বেও শান্তিরক্ষায় তাদের অবদানের কথা আমি স্মরণ করছি।
পুলিশের উন্নয়ন ঘটিয়েছে আ’লীগ: শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে জাতির পিতা যে বাহিনীর পুনর্গঠন ও উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তা হলো বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে তখনই জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি, ঝুঁকিভাতা চালু, রেশন প্রাপ্তির হার দ্বিগুণ এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করি। ১৯৯৮ সালে আমরাই প্রথম পুলিশ সুপার পদে একজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেই।
পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা মনে রাখতে হবে: শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ বাহিনীকে তাদের কর্মনিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা জনগণের বন্ধু। এটা প্রতিষ্ঠা করা খুব জরুরি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখনই কোনো বিপদে পড়ে, সবার আগে আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা সবসময় হয়ে আসছে। পুলিশ বাহিনীকে মানুষের সেবায় আমরা গড়ে তুলছি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগে বাধা দিতে যাওয়ায় পুলিশের ওপর হামলাও হয়েছে। তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ জীবন দিয়েছে। তারপরও পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষা করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুলিশ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। করোনায় যখন আত্মীয়-স্বজন পাশে ছিল না, পুলিশ ছিল মানুষের পাশে। মরদেহ দাফন-কাফনের ব্যবস্থাও করেছে পুলিশ।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখতে হবে: জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি দমনে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবা অব্যাহত রাখার এবং এজন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ পুলিশের প্রতি সে আস্থা রাখতে পারছে। কাজেই আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের সেবা করবেন, সেটাই আমরা চাই। তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে হলে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা একান্তভাবে অপরিহার্য। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখনই কোনও বিপদে পড়ে তখনই আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। কাজেই পুলিশ জনগণের বন্ধু এটা সবসময় চলে আসছে এবং এটাকেই প্রতিষ্ঠা করা একান্তভাবে দরকার। সে কারণেই আমি মনে করি, আমাদের পুলিশ বাহিনী তাদের সততা, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, ত্যাগ, বীরত্ব-দেশপ্রেম ও মানবীয় মূল্যবোধ নিয়েই জনগণের সেবা করবেন। পুলিশ বাহিনীকে আমরা সেভাবেই গড়ে তুলছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাদের (পুলিশ সদস্যদের) জনগণের প্রতি ভালবাসা নিয়ে আরও একনিষ্ঠ হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ। তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও। তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও। তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা। বাংলার মানুষ চায় তারা শান্তিতে ঘুমাক। তোমাদের কাছ থেকে আশা করে যে চোর, বদমায়েম, গুন্ডা, দুর্নীতিবাজ তাদের ওপর অত্যাচার না করে। তোমাদের কর্তব্য অনেক বেশি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ভাষণের এই মর্মবাণী ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য গভীর দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে যাবে, এই আমার প্রত্যাশা।
এর আগে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সর্বাধিক সংখ্যক ৪০০ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন। জীবন উৎসর্গকারী নয়জনের পরিবারের সদস্যদের হাতে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টলও পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ওয়াগনারের অবসর
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষনা দিলেন নিউজিল্যান্ডের পেসার নিল ওয়াগনার। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হওয়া দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের একাদশে থাকবেন না- এমন বার্তা পাবার পর অবসরের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ওয়াগনার। অবসর নিয়ে ৩৭ বছর বয়সী ওয়াগনার বলেন, ‘আপনি যেখানে অনেক কিছু দিয়েছেন এবং যা থেকে অনেক কিছু পেয়েছেন সেখান থেকে সরে যাওয়া সহজ নয়। কিন্তু এখন সময় এসেছে অন্যদের এগিয়ে যাওয়ার এবং এই দলকে এগিয়ে নেওয়ার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্ল্যাক ক্যাপসের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি এবং একটি দল হিসেবে আমরা যা অর্জন করতে পেরেছি তার জন্য আমি গর্বিত।’ বিদায় বেলায় প্রিয়জনদের ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি ৩৭ বছর বয়সী ওয়াগনার। তিনি বলেন, ‘আজ এখানে আসতে যেভাবে আমাকে সকলে সহযোগিতা করেছে তার জন্য জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি সতীর্থদের যাদেরকে আমার পৃথিবী হিসেবে গন্য করি তাদের জন্য সর্বদা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে দলের জন্য। আশা করছি আমি আমার উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ধরনের সহযোগিতা ও সহায়তার জন্য আমি আমার স্ত্রী লানাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। যে আমাকে এমন একটি মানুষ হতে সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি আমার দুই মেয়ে অলিভিয়া ও জাহলি এবং ছোট ছেলে জশকে বড় করতে তার যে অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ সেটার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই।’ ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন ওয়াগনার। ২৭.২৭ গড়ে ২৬০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। যা নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেট। ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শুধুমাত্র দেশের হয়ে টেস্টই খেলেছেন তিনি। প্রথম আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিউজিল্যান্ডের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা ছিলো ওয়াগনারের। ৮ টেস্টে ৩৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন ওয়াগনার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০৫ ম্যাচে ৮২১ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
স্মার্ট পুলিশ গড়তে প্রয়োজনীয় সবকিছু করছে সরকার
- আপলোড সময় : ২৮-০২-২০২৪ ১০:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৮-০২-২০২৪ ১০:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ